মহুয়ার মাতাল চোখ – সুমন নাসির
“আমি জানি—আমি ফিরে এসেছি ঠিকই। কিন্তু যে অংশটা ফিরে আসেনি, সেটা এখনও পদ্মার চরে ভাসছে। আর সত্যটা এখন আমার ভেতরে ধীরে ধীরে উঠে আসছে… মহুয়া আমি নিজেই।”
“আমি জানি—আমি ফিরে এসেছি ঠিকই। কিন্তু যে অংশটা ফিরে আসেনি, সেটা এখনও পদ্মার চরে ভাসছে। আর সত্যটা এখন আমার ভেতরে ধীরে ধীরে উঠে আসছে… মহুয়া আমি নিজেই।”
মেয়েটির গায়ে অজানা এক বনজ সুবাস, পাশে এসে দাড়ালেই বাতাসে ভাসে অজানা ফুলের মায়াবী মাদকতা। হাজারো রঙ বেরঙের প্রজাপতিদের মতো ইথারে নাচানাচি করে পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির ফুলের ঘ্রাণ ও রেণু। রক্তের নিউরণে নিউরণে সৃষ্টি হয় আড়োলন, মস্তিষ্ক খুঁজতে থাকে মেয়েটির দেহে, নিঃশ্বাসে অজানা অচেনা ফুলের ঘ্রাণ। মাথাটা ঝিমঝিম করে তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের উঠানামায়। হৃদয় তোলপাড় করা সেই ঘ্রানের সাথে মেলেনা গোলাপ, বেলী, বকুল, হাসনাহেনা কিংবা রজনীগন্ধা।
তাদের আবেগ ছিল বরেন্দ্রের তপ্ত মাটির মতোই জ্বলন্ত। রফিকের ঘাম-মাখা পুরুষালি গন্ধ আর চম্পার কাঁচা হলুদের মতো সুবাস মিশে এক হয়ে গেল। তারা একে অপরের মধ্যে হারিয়ে গেল—যেন সমাজ, শ্রেণি, সব তুচ্ছ। সেই মিলন শুধু শরীরের ছিল না। ছিল দুটো আত্মার তীব্র আর্তি—সব শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার মরিয়া চেষ্টা……
সাঁওতাল মাঝির একমাত্র মেয়ে। তার গায়ের রঙ যেন এই বরেন্দ্রের লাল মাটি দিয়েই গড়া—গভীর তামাটে, যাতে সূর্যের আলো পড়লে সোনালি আভা খেলে। ঘন কালো চুল খোঁপায় বাঁধা, তাতে গোঁজা বুনো ফুলের মালা, যার গন্ধে চারপাশ মাতাল হয়ে যায়। নীল শাড়ি খাটো করে জড়ানো কোমরে, হাতে-গলায় রুপোর গয়না ঝলমল করছে……
শহরটা দেখতে বড় চকচকে, বাইরে থেকে মনে হয় যেন সবকিছু সোনায় মোড়া। সন্ধ্যাবেলায় কাঁচের দালানকোঠাগুলোতে রোদ পড়লে চোখ ধাঁধিয়ে যায়,…
রিয়া এখন নেই। সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়ার পর অর্ণবের পৃথিবী থেকে রঙ, গন্ধ, শব্দ—সব যেন মুছে গেছে। যে শহরকে সে ভালোবাসত, এখন তার কোলাহল অসহ্য লাগে। মানুষের মুখগুলো সব মুখোশের মতো মনে হয়। আর কবিতা? সে তো এক নির্বাসিত পাখি, যার ফেরার কোনো পথ জানা নেই। তার ভেতরের সৃজনশীল ঝর্ণাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এই শূন্যতা ঢাকতে সে ডুবে গেছে কাজে, সোশ্যাল মিডিয়ার অর্থহীন স্ক্রোলিং-এ।
শহরের ধমনীর মতো বিস্তৃত সেই পিচঢালা কালো রাস্তাটা আজ যেন এক ক্ষুধার্ত অজগর। রৌদ্রদগ্ধ দ্বিপ্রহরে তার গা দিয়ে আগুনের হল্কা উঠছে…….
জামিলার ঘুম ভেঙে গেল মোরগের ডাকে। তবে এটা ভোরের পবিত্র আজান দেওয়া ডাক নয়……
চোখের হাসি; চোখও যে হাসতে পারে জানা ছিলো না আলামিনের। মেয়েটির চোখ ঠোঁটের মতো হাসছে; জলে ভেজা পানকৌড়ির মতো চোখের…
বাড়ি বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়েআমার দালান ঘরে,ভাবছি এবার করবো বাড়িমেঘেরই ওপরে।। প্রাসাদসম বাড়ি আমারদশ না বিঘার পরে ,ঝিকমিকয়ে মোজাইক জ্বলেপারস্য…
পোল্লাডাঙ্গা মহানন্দা নদীর তীরেছোট্ট একটা গাঁ,সে গাঁ’য়েরই একটা কোনেথাকে আমার মা। সেই গাঁ’য়েরই চতুর্দিকেআছে আম্র কানন,পাতায় পাতায় খেলা করেসূর্যের রশ্মি…
আবদুল্লাহ্ আল নাসির ফাঁকিদিনে দিনে তুমি হীনে বুকের ভেতর পুড়ছে পাঁজরউড়ছে ধোঁয়া, দূরে দূরে বহুদূরে আামায় ছেড়েযাচ্ছে সরে তোমার ছায়া!…
মেঘ তোমাকে কেউ বাসতো না ভালোযদি না থাকতো সূর্য,থাকতো না আহ্লাদী রুপহতো না পথিক মুগ্ধ।দেখতো না কেউ অবাক হয়েধনুক রংধনু,অপেক্ষার…
বংশাল নদীর বুক চিরে ছুটে চলেছে বিশাল এক ট্রলার। ডিজেল ইঞ্জিনের ঘর্ঘর শব্দের সাথে পাল্লা দিয়ে বাজছে দানবীয় সাউন্ড সিস্টেম।…
– একটি গল্প বিকেলটা তখনো থেমে থেমে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজে আছে। আকাশে গাঢ় ধূসর মেঘ, রাস্তার দু’ধারে কচি পাতায় জমে…
হঠ্যাৎ বাপে ফোনে কহিলো, একটু চৌরাস্তা যা; ওসমানের দোকানের দীপক বিশ হাজার টাকা দিবে, আমার একাউন্টে, ব্যাংকে গিয়ে জমা দে।…
বৃষ্টি থেমে আসে—দু’টি ফুলের ঝরে পড়া দেখেচিত্রময় মন আমার, শস্যময়—সেখানে হেঁটেছি যে কিছুদূর…সেই ছায়া এসে আমাকে বলছে যেনআমিতো শ্রাবণ।সূর্যাতীত বিদায়ে…