মহানন্দার তীরে

নীল ধুতুরা – সুমন নাসির

মেয়েটির গায়ে অজানা এক বনজ সুবাস, পাশে এসে দাড়ালেই বাতাসে ভাসে অজানা ফুলের মায়াবী মাদকতা। হাজারো রঙ বেরঙের প্রজাপতিদের মতো ইথারে নাচানাচি করে পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির ফুলের ঘ্রাণ ও রেণু। রক্তের নিউরণে নিউরণে সৃষ্টি হয় আড়োলন, মস্তিষ্ক খুঁজতে থাকে মেয়েটির দেহে, নিঃশ্বাসে অজানা অচেনা ফুলের ঘ্রাণ। মাথাটা ঝিমঝিম করে তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের উঠানামায়। হৃদয় তোলপাড় করা সেই ঘ্রানের সাথে মেলেনা গোলাপ, বেলী, বকুল, হাসনাহেনা কিংবা রজনীগন্ধা।

নীল ধুতুরা – সুমন নাসির

মেয়েটির গায়ে অজানা এক বনজ সুবাস, পাশে এসে দাড়ালেই বাতাসে ভাসে অজানা ফুলের মায়াবী মাদকতা। হাজারো রঙ বেরঙের প্রজাপতিদের মতো ইথারে নাচানাচি করে পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির ফুলের ঘ্রাণ ও রেণু। রক্তের নিউরণে নিউরণে সৃষ্টি হয় আড়োলন, মস্তিষ্ক খুঁজতে থাকে মেয়েটির দেহে, নিঃশ্বাসে অজানা অচেনা ফুলের ঘ্রাণ। মাথাটা ঝিমঝিম করে তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের উঠানামায়। হৃদয় তোলপাড় করা সেই ঘ্রানের সাথে মেলেনা গোলাপ, বেলী, বকুল, হাসনাহেনা কিংবা রজনীগন্ধা। রক্তের অনুগুলো ফোটতে থাকে, তপ্ত বালুর মাটির হাঁড়িতে যেমন খই ফোটে। হঠ্যাৎ মস্তিষ্ক ছুটে যায় কৈশোর হয়ে শৈশবে, বিলে ফোটা শাপলা-শালুক, কলমীলতা, বেগুন, আলু, পটল, ঝিঙা, শিম, বরবটি, আম, লিচু, কাঁঠাল, ডুমুরের ফুল! নাহ্ কোনো ফুলের ঘ্রাণের সাথে মেলেনা মেয়েটির নেশা নেশা তনুর ঘ্রাণ! আরে ডুমুরের তো ফুল হয় না তাহলে মনে ডুমুর আসলো কেনো? ডুমুর আসলো কেনো?

ইউরেকা! ইউরেকা! পেয়েছি ডুমুর গাছটি ছিলো আমাদের পাশের বাড়ির পিছনে ঝোঁপ-ঝাড়ের মাঝে। সেই ঝোঁপ-ঝাঁড়ের মাঝে জন্মাতো হরেক প্রজাতির নাম অজানা ফুল। আমরা যেখানে চড়ুইভাতি করতাম, আন্না পাতার কান্না রান্না করতাম ঠিক তার দক্ষিন কোনে ছিলো “নীল ধুতুরা”।
আষাঢ় মাস থেকে থেকে মেঘেরা স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে মাটির বুকে। ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের ছোট্ট সংসারের মানপাতার চাল। চুইয়ে চুইয়ে ছুঁইয়ে দিচ্ছে স্মৃতিরা ছোট্ট বউয়ের মাথার মেঘ কালো এলো চুল, ঝরে পড়ছে চোখের পাঁপড়িতে, নিষ্পাপ ঠোঁটে।সৃষ্টি হচ্ছে অপূর্ব অবলোকন।

-ও বউ এখনও তোর রান্ধা শেষ হয়নি খো? পেটের ছুঁচা গালা চেঁচামেচি করছে তো?

-ওতো কুহুক করো নাতো! লকড়ি নাই খো, কি দিয়া রাঁন্ধিবো? বাগানে যাও লকড়ি কুইড়হ্যা আনো নাহিলে খাইতে পাইবে নাখো!

– হাঁকে মাইরে ফেলার ফুন্দি? ম্যাগ চমকাইছে, বিজলি পড়বে মাথার উপরে!

– পড়ুক………..

বউয়ের পড়ুক বলার সাথে একটা তিন পোয়া ওজনের বাদুড় খাওয়া ফজলি আম পড়লো ঘরের চালের ওপর। ভেঁঙ্গে পড়লো বাঁশের কঞ্চির খুঁটি, ছিঁড়ে গেলো মানপাতার চাল। পন্ড হলো আমাদের বউজামাই খেলা, খাওয়া হলো না চড়ুইভাতি।

বস্ কি ভাবছেন?

– নাহ্! তেমন কিছু না। আচ্ছা শূন্য তুমি কি পারফিউম ব্যবহার করো?

-আমি কোনো পারফিউম ব্যবহার করি না।

– সত্যি!

– হুমম….

– তবে তুমি পাশে দাড়ালেই পায় একটা অদ্ভুত ঘ্রাণ, মাদকতায় ভরা; মাথা ঝিম ঝিম করে ওঠে,( নিউরনে জাগে সুপ্ত অগ্নিগিরী) ? এ ঘ্রাণ কি তোমার শরীরে প্রাকৃতিক?

– হ্যাঁ। আমার এ ঘ্রাণের কথায় অনেকেই বলে, যারা এ ঘ্রাণ জানে না!

– মানে……!

বলতেই উত্তর না দিয়ে, মেয়েটি মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো। বাতাসে ছিটিয়ে দিলো সেই মাতাল বনজ ঘ্রাণ। মেয়েটি বিড়ালের মতো চুপি চুপি নরম পায়ে আসে ওম পেতে, আদর করে কিছু বলতে চাইলেই ছুটে চলে যায় সুন্দরবনের সুন্দরী বলগা হরিনীর মতো।মেয়েটিকে এতো ভালো লাগে কেনো? ভালো লাগার মতো তো কিছুই দেখি না তার রূপে! পাঁচ ফুট এক কিংবা দুই ইঞ্চি উচ্চতা হবে, দেখতে একটু রোগা টাইপের, মাঝে মাঝে নেশাখোরদের মতো লাগে। নাক চাকমাদের মতো বোচা হতে গিয়ে বাঙ্গালীদের মতো নকটার্ন নিয়েছে। মুখটা গোলগালের উপর একটু চাপা, ল্যাংড়া আমের মতো। ঠোঁটটি ও তেমন সুন্দর নয়, তবে যেদিন লিপস্টিক লাগায় সেদিন চোখ ফেরানো যায় না। সবসময় পরিপাটি থাকে, পোশাক পরিচ্ছেদর প্রতিও যথেষ্ট যত্নবান।

মেয়েটির পেছন থেকে খুব আকর্ষণীয় লাগে। অনেকেই পেছন থেকে দেখে সামনে থেকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মেদহীন শরীর, বুকটা ছেলেদের মতো, কিছু আছে কিনা বোঝা যায় না, রহস্য সৃষ্টি করে রেখে আকর্ষণীয় করে তুলতে সাহায্য করেছে। কিন্তু নিতম্বটা ভরাট, যেটা সামনে থেকে অবলোকন করতে পাগল করে তোলে।না জানি কতো সুন্দর রমণী। সামনে থেকে দেখার পর দর্শক সন্তুষ্ট না হলেও অসন্তুষ্ট হয় না কেউ। তেমনি ধরনের দেখতে মেয়েটি।
.
মেয়েটির দেহে টানে না আমাকে, টানে তার পাগল করা বিষাক্ত ঘ্রাণ।
দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ি মেয়েটির প্রতি। তার দেহের বাতাসে ভেসে বেড়ানো ঘ্রাণে আসক্ত হয়ে পড়ি। কারণে-অকারণে কাছে ডাকি, কাছ থেকে নিতে থাকি বনজ আদিম ঘ্রাণ। বলে ফেলি তার দেহের ঘ্রাণে বেসামাল হয়ে পড়ার কথা। আমার কথা শুনে মেয়েটি হাসতে থাকে অভেদ্য রহস্যময়ী হাসি। আমি ডুবতে থাকি তার চোখের কোনের প্রশান্ত মহাসাগরে।

-আচ্ছা শূন্য একটা কথা বলি…..

-বলেন?

-তুমি কি নেশা করো?

-করি, মাঝে-মধ্যে।

-কি ধরণের……

উত্তর শুনে মাথা ঘুরে গেলো, হৃদয় উন্মুখ হয়ে উঠলো পেতে নিষিদ্ধ বিষাক্ত সুখ।

দিন দিন মেয়েটি নজরকাড়া হয়ে উঠেছে, ইয়াবা যেমন সব নেশাকে ছাড়িয়ে জনপ্রিয় উঠছে। তেমনি মেয়েটি আমার রক্তের নিউরণে নিউরণে বারুদ ছিটিয়ে আগুন জ্বেলে সব ভালো লাগা ধ্বংস করে, সমস্ত সত্ত্বা জুড়ে বিচরণ করছে। সে ছাড়া পৃথিবী বিস্বাদ ও ঘ্রাণহীন। পৃথিবীর সমস্ত সুখের কেন্দ্র হয়ে উঠছে মেয়েটি।

– ইয়াবা খেতে কেমন লাগে?

– অন্নেক মজা……. সে রকম ফিলিংস। না খেলে বুঝবেন না কত্ত ভালো লাগে!

– আমাকে খাওয়াবা শূন্য!

– আপনি খাবেন?

– হুমম……..

– খাইয়েন না, একবার খেলে ছাড়তে পারবেন না? আপনি তো সিগারেট ই খান না! আপনি বাবা খেতে পারবেন না?

– তুমি তো পারো! আমাকে শিখিয়ে দিবে? “বাবা” কি শূন্য?

_ ইয়াবার ডাক নাম।

– তাই!… হা হা হা ইয়াবার ডাক নাম বাবা। সুন্দর নাম তো! আচ্ছা কবে খাওয়াবা আব্বু ?

– আব্বু খাওয়াবো মানে!

– হা হা হা আমি বাবাকে বাবা বলি না, আব্বু বলে ডাকি।

– আপনিও না! সব কিছু নিয়েই ফান করেন?

– তোমাকে খুব ভালো লাগে, ভালো লাগে তোমার দেহের ঘ্রাণ। তুমি কাছে আসলেই হারিয়ে যায় আদিমতায়, হৃদয়ে গজিয়ে বুনোলতা, শিতল পুকুরে ডেকে ওঠে….

– থাক্ থাক্ আর কবিতা আওড়াতে হবে না। এরপর যখন আমি বাবা খাবো আপনাকে ডাকবো।

এখানে মেয়েটির দোষ নেই, দোষ পিপিলিকার! যে মাটির হাঁড়ির কালি ভেদ করে লুকানো রসগোল্লা খেতে চাই।

ইয়াবা একটি মরণ ব্যাধি নেশার নাম। নেশার জগতের বাবা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এটা কিভাবে খায় আমার ধারণা ছিলো না। পত্রিকা, টেলিভিশনে ইয়াবা দেখেছি, চাক্ষুষ দেখিনি। মনে করেছিলাম ট্যাবলেটের মতো দেখতে, ট্যাবলেটের মতোই পানি দিয়ে গিলে খায়।
সিগারেট পান বিড়ির মতো ছোটো নেশাও কোনো দিন খাওয়া হয়নি, সেখানো মন মাতোয়ারা ইয়াবার জন্য। একবার খেয়ে দেখতে চায়, খেলে কেমন ফিলিংস আসে। শুনেছি একবার খেলে কেউ ছাড়তে পারে না, কিন্তু আমি একবারই খেতে চায়, জানি ইয়াবা আমাকে ধরে রাখতে পারবে না। ইয়াবার মাধ্যমে শুধু যেতে চায় মেয়েটির কাছাকাছি, বুকে ভরে নিতে চাই অচেনা -অজানা রহস্যময়ী ফুল কিংবা মাটির ঘ্রাণ। সাঁতার কাটতে চাই মাটির বুকে, ডুব দিয়ে খুঁজতে চাই সেই ঘ্রাণের উৎপত্তিস্থল।

একবার ছোটোবেলা এক কাকা নাসির বিড়ি আনতে পাঠিয়েছিলো দোকানে। দুই টাকায় বিশটি বিড়ি দিয়েছিলো। ওখান থেকে একটি রেখে দিয়েছিলাম ভয়ে ভয়ে…
ধরা পড়ার ভয়ে। কিন্তু না কাকা বিড়ি গননা না করেই, একটা বিড়ি বের করে আগুন লাগিয়ে সুখ টান দেওয়া শুরু করলেন। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, যাক বাবা ধরা পড়িনি।
তারপর চুপিচুপি দাদির ঘরে গিয়ে পকেটে দিয়া শলাই রাখলাম। পরণে হাফ প্যান্ট গায়ে শর্ট স্লিভ শার্ট, খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি করছি আর অপেক্ষায় অন্ধকারের। সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই, হার্টবিট টিপটিপ করছে। সিগারেট বিড়ি কেনো মানুষ খায়, কি মধুমাখা তাতে আজকে দেখতে চাই।
সন্ধ্যা পেরিয়ে মাগরিবের নামাজ শেষ হয়ে গেছে বাড়ির সামনের গলিতে ছিল দুইটি মেওয়া ফলের গাছ, দুইটি তাল গাছ রাস্তার সাথে লাগোয়া। মেওয়া গাছটি ছিলো অনেক বড়ো, ডালপালায় ছড়াছড়ি। সবুজ ঘন ঘন পাতা গাঢ় অন্ধকার তৈরিতে সাহায্য করেছে। উঠে পড়লাম গাছের উপর, গাছের কিছু ডালপালা রাস্তার উপরে ঝুলে আছে। গ্রামের রাস্তা, আমাদের বাড়ি থেকে অল্প দূরেই গ্রামের বাজার, হঠ্যাৎ হঠ্যাৎ রাস্তা দিয়ে মানুষ আসা-যাওয়া করছে। দেখা মাত্র বুকটা ধড়াক করে উঠছে। পকেট থেকে বিড়ি ও দিয়াশলাই বের করতেই পিচ্ছলে গেলো বাম পা টি, মড়াক করে ভেঁঙ্গে একটি ডাল।
রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো গ্রামের এক দাদা হঠ্যাৎ ডাল ভাঁঙ্গার শব্দে, ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠলো।
– কে টা রে…

.
– দাদা হাঁমি সুম….

– রাইতের ব্যালা গাছে উঠেছিস কেনে বে? পাইড়্যা হাত পা ভাঁঙ্গার লাইগ্যা?

– না জি দাদা লুকাচুরি খেলছি।

– লুকার আর জায়গা পাইসনি? গাছ থাইক্যা নাম! নাহিলে তোর বাপকে ডাক দিবো?

বুঝতেছি চরম ভয় পেয়েছে দাদা! বেশি ভয় পাইলে মানুষ জোরে চিল্লায়া বুঝায় “আমি কিন্তু ভয় পায়নি”। দাদাটার আজ সেই অবস্থা।

– নামছি জি দাদা, ভয় পাইয়্যাছেন নাকি?

– ভয় পাবো কেনে বে?

– না আপনার ঠ্যাং টা কাঁপছে মনে হইছে?

– হাঁর সঁথে ফাইজল্যামি করছিস? থাম! তোর বাপকে পঁহাতে কহিতে দে?
আমার বাবাকে আমি যমের মতো ভয়, সেটা গ্রামের কম-বেশি সবাই জানে। সে জন্যই আমার বাপকে নিয়ে বাহাদুরি দেখাচ্ছে।

– আব্বাকে কিছু কহিয়েন না দাদা! নামছি……..
– এ লাইগ্যায় তোর বাপের মাইর খাইস? বদমাহিশ ট্যা……
বকবক করতে করতে দাদা চলে গেলো। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এদিক ওদিক তাকিয়ে কোনো দোপায়া প্রাণীকে না দেখতে পেয়ে, উঠে পড়লাম আবার মেওয়ার গাছে।
আজকে খেয়ে দেখতেই হবেই দামড়া বুড়ো, দামড়া বুড়োর ব্যাটাদের বিড়িতে কি অমৃত আছে! এবার আর দেরি না করে, কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে বিড়ি রেখে, ভিতু হাতে বিড়ির মুখে আগুন ধরিয়ে টান দিতেই, ঘক্ ঘক্ কাশি শুরু হয়ে গেলো। কি বিশ্রি স্বাদ ও গন্ধ! সারা শরীরে গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো। বুঝি না দামড়া বুড়োদের দামড়া ব্যাটারা কিভাবে এই কু জিনিসের জন্য তিন বেলা না খেয়ে থাকতে পারে কিন্তু একবেলায় তিন হালি খাওয়া লাগবেই।
সারা দেহে দিয়ে গন্ধ বেরুচ্ছে। বাড়ি ভিতর গেলেই ধরা পড়া যাবো, মুখে ইটের ভাটার আগুন লাগিয়েছি। খাওয়ার আগে উত্তেজনায় ভয় দূরে ছিলো, এখন বাপের পেদানি খাওয়ার উত্তেজনায় সম্স্ত ভয় মনে ভর করেছে। হঠ্যাৎ মনে পড়লো, এক নব্য বালক বিড়িখোর বলেছিলো, ‘বিড়ি খাওয়ার পর ফজলি আমের পাতা চিবালে গন্ধ দূর হয়ে যায়।’ আমাদের বাড়ির দক্ষিন-পূর্ব কোনে বিশাল আশ্বিনা-ফজলি আমের বাগান। ফজলি আমের পাতা খেতে যেতে সেখানে। বাগানের দিকে তাকাতেই বুকটা ধক্ করে উঠলো, ঝিঁ ঝিঁ পোকাদের ঝিঁ ঝিঁ মিউজিকে জোনাকিদের মিটিমিটি আলোক সজ্জায় এক ভূতুড়ে মঞ্চ তৈরি হয়ে আছে। মনে হচ্ছে মঞ্চের পিছনে কাইল্যা ভূতেরা বসে আছে আমার অপেক্ষায় টুঁটি মটকানোর জন্য। আমার মুন্ডি নিয়ে ফুটবল খেলবে। সাহস হলো না সেদিকে পা বাড়ানোর। এদিকে প্রচন্ড গন্ধ বমি হওয়ার উপক্রম। আমাদের গলির এক কোনে একটা ছোট্ট ল্যাংড়া আমের গাছ ঝিমুচ্ছে আমার বাপের হাতের কোপানি খেয়ে।(গত আমের মৌসুমে সেজো কাকা ও আমার বাপ মেজো, এই ল্যাংড়া গাছটা নিয়ে ঝগড়া করার এক পর্যায়ে রামদার কোপ মেরেছিলো।)
ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে গাছটির পাতা ছিঁড়ে দ্রুত ছাগলের মত চিবুতে লাগলাম। তিন-চারটা খাওয়ার পরও গন্ধ দূর হয় না নাসির বিড়ির। মনে মনে গুষ্টি উদ্ধার শুরু করলাম বিড়ির চৌদ্দ গুষ্টির।
ধুক্ ধুক্ বুকে অনেক ভেবে চিন্তে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করলাম। আব্বা বাড়িতে নাই, হয়তো বাজারে গিয়েছে।
জন্মের পর থেকেই মায়ের দুধ খেতাম আর দাদীর কাছে ঘুমাতাম। এ ঘুম ছিলো বারো-তেরো বছর বয়স পর্যন্ত। ভয়ে ভয়ে গেলাম দাদা-দাদীর ঘরে, যেতেই…
– হায়! হায়! তুই বিড়ি খাইয়্যাছিস কেনে? তোর বাপ তো আইজক্যা তোকে মাইরে ফেলবে? হায়! হায়! তোকে লিয়্যা হাঁমি কি করবো!
– হাঁমি বিড়ি খায় নি খো গে! কাকা বিড়ি আনতে প্যাঠালছিলো, বিড়ি পকেটে কইরে আইনছিনু তাই গন্ধাইছে?
– মিচ্ছে কথা কহার জায়গা পাইসন্যা খো তুই? বিড়ি পকেটে আনলে এ্যাতো গন্ধায়? দেখি তোর মুখ……..
– হাঁমি আর কুনু দিন খাবো নাখো! আব্বাকে কহিস না বুবু? কান ধরছি…..
– হাতে ছুব (থু থু) ফেল্যা চাট তাহিলে, আর কহা কুনু দিন বিড়ি মুখে লিবি নে?

কিছু করার থাকলো না, আমি ছিলাম দাদীর অবাধ্য পোতা (ছেলের ছেলে), এই বুড়ির ব্যাটার হাতের ঠাঠানি (মার খাওয়া) থেকে বাঁচতে বাধ্য পোতা হতে হলো। এরপর আর একদিন ছাড়া কখনও সিগারেট-বিড়ি খায় নি।
তাই ইয়াবা নামক বাবা কিভাবে খাবো ভাবছি। ভেবেছিলাম পানি দিয়ে গিলে খায়, এখন তো শুনি বিড়ির মতো ধোঁয়া টানতে হয় পাইপ দিয়ে!
পেশাদার নেশাখরনী! নেশা জগতের এমন কোনো নেশা নেই তার স্পর্শ পায় নি! বলেছে মেয়েটি।
বলে কি বাচ্চা মেয়েটি! শান্ত-শিষ্ট হিজাব পরিহিত, দেখলে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করে ফেলেছি, সে যা বলে তাই আমার বিশ্বাস আমার মায়াবী নিঃশ্বাস! আমার আত্মা যে, হাবুডুবি খায় তার নিষিদ্ধ সত্ত্বায়।
– শুন্য….
– বলেন?
– তোমার বাসায় আদা আছে?
– হ্যাঁ আছে, আদা কি করবেন?
– খাবো! চিবিয়ে চিবিয়ে…..
– হা হা পাগল!
– পাগল আর ছাগল যা ইচ্ছে বলো! আসার সময় এক টুকরো আনিও….. আর বাবা কবে খাওয়াবা?
– আর কিছু বলবেন?

বলেই লাইনটি কেটে দিলো, কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই। শালা! মেয়েরা যে কেনো এতো ভাব দেখায়! ওরা পৃথিবীতে এসেছে শুধুই বুঝি রুপ ও ভাব দেখাতে? দূর থেকে মূলা দেখাবে, কাছে গেলেই ক্যাঁচকাল্লা।

-আপনি কোথায় এখন?
– বাসায় উঠছি এখন….
– বাবা খাবেন? যদি খান দ্রুত আমার বাসায় আসেন?
– কোথায় বাসা? কিভাবে আসবো?
– চৌরাস্তায় আসেন প্রথমে, তারপর রিক্সা নেন, দশ টাকা ভাড়া দিবেন। তারপর বলবেন, চৌধুরী বা…..

– ওকে আসছি। কিন্তু শুন্য তোমার জামাই কিছু বলবে না তো?
– আরে না আসেন, রিয়াদ বাসায় নাই।
– ঠিক আছে আসছি।

…তারপর ফোন কেটে দিলাম। আমার বাসা পাঁচ তলায়, তিন তলা পর্যন্ত উঠেছিলাম। হাতে সামান্য কিছু বাজার আছে, মনের খুশিতে এক দৌড়ে পাঁচ তলায় উঠলাম। বাজার গুলো ডাইনিং টেবিলে রেখেই বৌ’কে বললাম, আমি আসছি নিচে থেকে, বলেই বেরিয়ে পড়লাম। পিছনে ছেলে ডাকছে আব্বু আব্বু…….

কে শোনে কার কথা! আমি আমার দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত নীল ধুতুরার ডাক পেয়েছি। তার বিষাক্ত মধুর আহ্বানে আমার সমস্ত সত্তা সাড়া দিয়েছে।

শূন্যের বলা লোকেশন অনুযায়ী রিক্সা থেকে নামলাম। চারদিকে একবার চোরের মতো তাকালাম। মনটা দুরু দুরু কাঁপছে, কিন্তু তার চেয়েও তীব্র এক আদিম উত্তেজনা রক্তের প্রতিটি কণিকাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ ডাক এলো, “এদিকে আসেন।” স্বরটা কানে পৌঁছানো মাত্র শিরদাঁড়া দিয়ে একটা বিদ্যুতের স্রোত বয়ে গেল। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার পিছু পিছু হেঁটে যাচ্ছি। সে থাকে দোতলার এক ফ্ল্যাটে। সরু সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে আমার মনে হলো, আমি যেন কোনো নিষিদ্ধ গুহায় প্রবেশ করছি।

ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই মেক্সি পরা এক মহিলা আমাদের দিকে তীব্র চোখে তাকালো। তার দৃষ্টিতে ঘৃণা আর করুণা মেশানো। কিন্তু শূন্যের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে আমার হাত ধরে প্রায় টেনে নিয়ে গেল নিজের ঘরে।

ঘরে ঢুকেই ছিটকিনিটা তুলে দিল সে। ‘খট’ করে একটা শব্দ হলো, আর আমার মনে হলো, বাইরের পৃথিবীর সাথে আমার সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। ঘরটা অন্ধকার, শুধু জানালার পর্দা চুঁইয়ে আসা আবছা আলোয় একটা রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর সেই ঘ্রাণ! এখানে আসতেই ঘ্রাণটা যেন শতগুণ তীব্র হয়ে আমার মস্তিষ্ককে দখল করে নিচ্ছে।

“ভয় পাচ্ছেন?” ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো শূন্য।

আমি কোনোমতে মাথা নাড়লাম।

সে আমার খুব কাছে এগিয়ে এলো। হিজাবটা খুলতে খুলতে বলল, “ভয় পেলে মজা নষ্ট হয়ে যায়, বস। আজ কোনো ভয় থাকবে না। আজ শুধু নেশা হবে।”

এই প্রথম আমি তার চুল দেখলাম। কাঁধ পর্যন্ত ছড়ানো সোনালী রঙ করা চুল। আবছা আলোয় চিকচিক করছে। সে আমার দিকে ঝুঁকে এলো, তার নিঃশ্বাস আমার মুখে এসে লাগছে। সেই নিঃশ্বাসে বনজ ঘ্রাণের সাথে মেশানো আরও গভীর, আরও মাদকতাময় কিছু একটা আছে। আমার মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো।

“দূরে দূরে থাকেন ক্যান্? এদিকে আসেন,” তার কন্ঠস্বর আর্দ্র, আমন্ত্রণে ভরা। “আমার কাছাকাছি বসতে পারেন না? এতো লজ্জা কিসের আপনার?”

আমি যেন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। ধীরে ধীরে তার খাটের ওপর বসলাম। সে আমার আরও কাছে সরে এলো। আমাদের হাঁটুতে হাঁটুতে স্পর্শ লাগলো। উত্তেজনায় আমার শরীর কাঁপছে। শূন্য আমার কাঁধে হাত রাখলো। তার স্পর্শে আমার সমস্ত শরীর জ্বলে উঠলো।

সে ড্রয়ার থেকে সেই সরঞ্জামগুলো বের করলো। রাং পাতা, গ্যাস লাইটার, পুঁটলিতে মোড়া গোলাপি ট্যাবলেট। তার প্রতিটি নড়াচড়া ছিল ধীর, স্থির এবং আশ্চর্যরকমের আকর্ষণীয়। সে যেন কোনো উপাসনা করছে। ফয়েল পেপার ভাঁজ করে নৌকা বানানোর সময় তার আঙুলের দিকে আমি তাকিয়ে ছিলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো। সেই অভেদ্য রহস্যময়ী হাসি, কিন্তু আজ সেই হাসিতে স্পষ্ট আমন্ত্রণ।

“দেখুন,” সে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল, “কিভাবে অমৃত তৈরি করতে হয়।”

পুঁটলি খুলে গোলাপি রঙের ছোট্ট একটা ট্যাবলেট বের করে রাখল সেই নৌকার ওপর। গ্যাস লাইটারের মাথার সূঁচটি গরম করে ট্যাবলেটটাকে আলতো করে গুঁড়ো করলো। তারপর ফয়েলের নিচে লাইটার ধরে তাপ দিতেই এক ঝলক সাদা ধোঁয়া সাপের মতো এঁকেবেঁকে উঠে এলো। ধোঁয়ার সাথে সাথে সেই পাগল করা ঘ্রাণটা যেন ঘনীভূত হয়ে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ল।

“নিন,” সে পাইপটা আমার ঠোঁটের কাছে এনে বলল। তার আঙুল আমার ঠোঁট স্পর্শ করলো। “ভেতরে নিন। সবটুকু… একদম আত্মার ভেতরে।”

আমি তার চোখে তাকালাম। সেখানে দাউদাউ করে জ্বলছে নেশার আগুন। সেই আগুনে পোড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমি পাইপটা মুখে নিলাম। প্রথম টানেই গলাটা জ্বলে গিয়ে তীব্র কাশি এলো।

শূন্য আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। তার হাতের স্পর্শ আমার পিঠ থেকে শুরু করে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। সে আমার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে বলল, “আস্তে… রিলাক্স। আমাকে অনুভব করুন, নেশাকে অনুভব করুন। সব একাকার হয়ে যাবে।”

দ্বিতীয়বার আমি আর ভুল করলাম না। ধোঁয়ার স্রোতটা ভেতরে টেনে ধরে রাখলাম। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা দুলে উঠলো। ঘরের দেয়ালগুলো গলে যাচ্ছে, শূন্যের মুখটা আমার মুখের ওপর ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হলো, আমি আর ধোঁয়া টানছি না, আমি শূন্যের আত্মাটাকে আমার ভেতরে শুষে নিচ্ছি। আর সেই ঘ্রাণ! সেটা আর বাইরে নেই, আমার রক্তের সাথে, আমার ফুসফুসের প্রতিটি কোষের সাথে মিশে গেছে।

চোখ বন্ধ করতেই আমি দেখলাম সেই কৈশোরের ঝোঁপ-ঝাড়। কিন্তু সেখানে হাজারো নীল ধুতুরা ফুটে নেই, ফুটে আছে একটিই ফুল। আর সেই ফুল হলো শূন্য। তার শরীর থেকে পাপড়ির মতো খুলে পড়ছে পোশাক। নগ্ন, শুভ্র শরীরটা যেন চাঁদের আলোয় গড়া। বাতাসে ভাসছে তার শরীরের মাদকতা। আমি এগিয়ে গেলাম। তাকে স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়াতেই সে হাসলো।

“পেয়েছেন আপনার ঘ্রাণের উৎস?” তার কন্ঠস্বর আর ফিসফিসানি নয়, যেন আমার মস্তিষ্কের ভেতরেই বেজে উঠছে।

“তুমি… তুমিই সেই নীল ধুতুরা!” আমার গলা দিয়ে স্বর বের হলো না, কিন্তু কথাগুলো প্রতিধ্বনিত হলো আমার চেতনায়।

আমি তাকে স্পর্শ করলাম। তার ত্বক নয়, যেন ফুলের মসৃণ পাপড়ি। তাকে আলিঙ্গন করতেই আমার মনে হলো, আমি কোনো নারীকে নয়, এক আদিম বনজ সুবাসের উৎসকে আলিঙ্গন করছি। তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে, প্রতিটি রেখায় লুকিয়ে আছে সেই রহস্য। আমি তার ঘাড়ে, কাঁধে, বুকে মুখ ডুবিয়ে সেই ঘ্রাণ নিতে লাগলাম। বাস্তব আর কল্পনার বিভেদ মুছে গেল। তার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস, আমার ঠোঁটে তার ঠোঁটের চাপ, তার শরীরের উষ্ণতা—সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল সেই সর্বনাশা ধোঁয়ার সাথে।

নেশার চূড়ায় পৌঁছে হঠাৎ আমার ঘোরটা কাটতে শুরু করলো। আমি চোখ মেলে তাকালাম। শূন্য আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে জল। নেশার ঘোরে দেখা সেই দেবী নয়, ক্লান্ত, বিষণ্ণ এক নারী।

তোমার কষ্ট হয়, শূন্য? আমার কন্ঠস্বর ফ্যাসফেসে শোনাল।

সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো। যার নাম শূন্য, তার কি কিছু থাকতে আছে, বস? আমার কোনো ঘ্রাণ নেই। কিচ্ছু নেই।

সে আমার দিকে তাকালো। তার চোখে এখন আর আগুন নেই, আছে নিভে যাওয়া কয়লার মতো শূন্যতা।

“যে ঘ্রাণটা আপনার মাথা খারাপ করে দিয়েছে, সেটা আমার শরীরের নয়। সেটা এই পোড়া প্লাস্টিক আর সস্তা কেমিক্যালের ঝাঁঝালো গন্ধ।” সে ফয়েল পেপারটা আমার চোখের সামনে তুলে ধরল। “আপনার মস্তিষ্ক, আপনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এই দুর্গন্ধকে ফুলের সুবাস বানিয়ে নিয়েছে। আপনি আমাকে চাননি, বস। আপনি একটা মোহ -কে চেয়েছেন।”

কথাগুলো আমার কানে সিসার মতো এসে বিঁধল। আমার নেশার রঙিন পৃথিবীটা এক মুহূর্তে সাদা-কালো হয়ে গেল। যেটাকে আমি অমৃত ভাবছিলাম, সেটা আসলে বিষ। যেটাকে আমি বনজ সুবাস ভাবছিলাম, সেটা আসলে মৃত্যুর গন্ধ। আমার শরীরজুড়ে যে শিহরণ ছিল, তা এক মুহূর্তে তীব্র বিতৃষ্ণায় পরিণত হলো। আমি শূন্যের দিকে তাকালাম। তার ক্লান্ত, জলভরা চোখ, এলোমেলো চুল, পোড়া প্লাস্টিকের গন্ধমাখা শরীর—সব মিলিয়ে এক বীভৎস সত্য আমার সামনে উন্মোচিত হলো।

আমি টলতে টলতে উঠে দাঁড়ালাম। ঘরটা ঘুরছে। তীব্র বমি ভাব উঠে আসছে।

“আমি যাই।”

শূন্য কোনো উত্তর দিল না, শুধু দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল।

ফ্ল্যাটের দরজা খুলে বাইরে আসতেই সেই মেক্সি পরা মহিলাটি আমার দিকে এমনভাবে তাকালো, যেন আমি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কীট।

রাস্তায় নেমে আমি জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার নাকে পৃথিবীর কোনো গন্ধ নেই। শুধু লেগে আছে সেই পোড়া, রাসায়নিক গন্ধ আর নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা। আমার কল্পনার ‘নীল ধুতুরা’ মরে গেছে। আর তার সাথে সাথে আমার ভেতরের মানুষটাও যেন মরে গেছে। আমি এক মায়াবী ঘ্রাণের লোভে এসেছিলাম, কিন্তু যা নিয়ে ফিরছি, তা আমার আত্মাকে চিরদিনের জন্য পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।

সমাপ্ত।

Facebook
LinkedIn

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শেয়ার করুন :

আরও পোস্ট

মহুয়ার মাতাল চোখ – সুমন নাসির

“আমি জানি—আমি ফিরে এসেছি ঠিকই। কিন্তু যে অংশটা ফিরে আসেনি, সেটা এখনও পদ্মার চরে ভাসছে। আর সত্যটা এখন আমার ভেতরে ধীরে ধীরে উঠে আসছে… মহুয়া আমি নিজেই।”

বাথান – সুমন নাসির

তাদের আবেগ ছিল বরেন্দ্রের তপ্ত মাটির মতোই জ্বলন্ত। রফিকের ঘাম-মাখা পুরুষালি গন্ধ আর চম্পার কাঁচা হলুদের মতো সুবাস মিশে এক হয়ে গেল। তারা একে অপরের মধ্যে হারিয়ে গেল—যেন সমাজ, শ্রেণি, সব তুচ্ছ। সেই মিলন শুধু শরীরের ছিল না। ছিল দুটো আত্মার তীব্র আর্তি—সব শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার মরিয়া চেষ্টা……

লাল মাটির মায়া – সুমন নাসির  

সাঁওতাল মাঝির একমাত্র মেয়ে। তার গায়ের রঙ যেন এই বরেন্দ্রের লাল মাটি দিয়েই গড়া—গভীর তামাটে, যাতে সূর্যের আলো পড়লে সোনালি আভা খেলে। ঘন কালো চুল খোঁপায় বাঁধা, তাতে গোঁজা বুনো ফুলের মালা, যার গন্ধে চারপাশ মাতাল হয়ে যায়। নীল শাড়ি খাটো করে জড়ানো কোমরে, হাতে-গলায় রুপোর গয়না ঝলমল করছে……

কিন্তু জানো তো, সবচেয়ে উজ্জ্বল হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে গভীর দাগ। জীবনটা সবসময় ফিল্টার লাগানো ছবির মতো হয় না।

মুখোশের আড়ালে – সুমন নাসির

শহরটা দেখতে বড় চকচকে, বাইরে থেকে মনে হয় যেন সবকিছু সোনায় মোড়া। সন্ধ্যাবেলায় কাঁচের দালানকোঠাগুলোতে রোদ পড়লে চোখ ধাঁধিয়ে যায়,

আমাদের একটি বার্তা পাঠান

সম্পর্কিত পোস্ট

Scroll to Top