হঠ্যাৎ বাপে ফোনে কহিলো, একটু চৌরাস্তা যা; ওসমানের দোকানের দীপক বিশ হাজার টাকা দিবে, আমার একাউন্টে, ব্যাংকে গিয়ে জমা দে।
হাঁমি দূপ পহরের ভাত খাইয়্যা, অফিস থাইক্যা বাহির হইয়া কাশেম ভাইয়ের দোকান থাইক্যা একটা বেনসন জ্বাইল্যা চৌধরী বাড়ির সামনে খাড়ো হয়্যা আছি চৌরাস্তা যাওয়ার লাইগ্যা।
জ্যাম ঠেলে ঠেলে বাস যাইছে কিন্তু উঠছি ন্যা, এগারো টাকার বিড়ি ফেল্যা দেওয়ার ভয়ে। তাই রিক্সার ঘাঁটা তাকাছি; তাকাইতে তাকাইতে সময় চইল্যা যাইছে কিন্তু খালি রিক্স্যা যাইছে না।
প্রচন্ড রইদ (রৌদ্র) যাত্রিরা হুড ফ্যাইলে চুপ চুপ চইল্যা যাইছে, আর হাঁমি টুকি মাইর্যা মাইর্যা খালি রিক্স্যা ঢ়ুঁড়ছি। পাশে জমে আছে বৃষ্টি ও গার্মেন্টেসের পচা পানি। বুকটা খচখচ কইরা উঠলো, এখানে বিশ দিন আগে আছাড় খাইয়্যা বাম পা মচকে গেছিলো। ভাইঙ্গে যাওয়া ভালো তো, মচকে যাওয়া ভালো লয়; বিধায় এখনো একটু ল্যাংড়েহ্ ল্যাংড়েহ্ হাঁটতে হয়।
রাগ কইরে হাতের সিগারেটটা দিনু সেখানে ফেইল্যা।
হঠ্যাৎ একটা হুড ফেইল্যা রিক্স্যা আসছে, পিছনে সইরে টুকি মারতেই হাঁর মাথার খুলি লাফাইতে লাগলো। রিক্স্যায় বসে আছে স্বয়ং হাঁর বিশ্বখ্যাত উপন্যাস “নীল ধুতুরা”র নায়িকা! একটা ঢিলাঢালা নীল জামা পিন্ধে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দিয়্যা
মলিন মুখে, এক হাতে ছাতা আরাক হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ লিয়্যা বসে আছে। চোখাচোখি হতেই একটা শুক্খা মুচকি হাসি দিলো; কিন্তু ব্যাকুলতা দেখালো না। অথচ আগে হাঁকে রাস্তা-ঘাটে, মার্কেটে যেখানেই দেখতোক স্বামীর বগল ছিঁড়ে হাসতে হাসতে চইল্যা আসতোক। কী এক সুন্দর হাসির রেণু চারপাশে মুখরিত কৈর্যা তুলতোক। এই হাসির লাইগ্যা এই নায়িকাকে ডাকতুং আদর কৈর্যা সুহাসিনী। তখন আরো, হাসির ঢাকুন খুইল্যা উতল্যা পড়তোক।
এইল্যা ভাবনার ভিতর ঘুরাঘুরি করতে করতে, ভোক কইর্যা হাঁরে XXX এর রিক্স্যা চোখের আঁহতে চলে গ্যালো। তখন হাঁর জি খ্যান ছিলি বিলি করতে লাগলো। ভাঙ্গা হৃদয় খ্যান আবার ভাঙ্গার লাইগ্যা ছটফটাইতে লাগলো। সামনে দিয়্যা যাচ্ছিলো VIP বাস ( এল্যা বাসে Very Idiot Person চলাফেরা কৈর্যা থাকে) , কাছে আসতেই টপাক কৈর্যা উঠ্যা পড়নু। যে কৈর্যাই হোইক মামুর ব্যাটিকে ধরতেই হইবে। দীর্ঘ আধ যুগ পরে দেখা।
হাঁমি বাসে উইঠ্যা হেলপারের জাগা দখল কৈর্যা লিয়্যাছি, হেলপার ছোঁড়া চিল্ল্যাইছে সার ভিতরে যান ভিতরে যান। আমি কোহিনু হটবে বুড়বোক শালা, সামনেই নাইম্যা যাবো; হাঁমি হাঁর নীল ধুতুরাকে ঢ়ুঁড়ছি। ভিতরে গ্যালে দেখতে পাবো ক্যাং কৈর্যা?
হাঁর জানটা ছিলি বিলি করছে, বাস খানটা লিটপিট কৈর্যা চলছ্যা; বালের বাস ভোট কৈর্যা চলতে পারে নাখো? শালারে নাম দিয়্যাছে VIP! মনে মনে বাসের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে করতে, চোখ পড়লো হাঁর নীল ধুতুরা রিক্স্যা থাইক্যা নাইম্যা পড়ছে আলাউদ্দীন চোধুরী তেল পাম্পের বিপরীতে পারে। হাঁচি চিল্লাইতে লাগনু, মামা ভোক কৈর্যা বাস খাড়ো করেন? পুরুষ নামছে……. হাঁর আজগিল্ল্যা কথা শুইন্যা VIP (Very Idiot Person) হাসতে লাগলো। হাঁমি পাঁচ টাকার ভাড়ায়, দশ টাকার লোট দিয়্যা ভোট কৈর্যা বাস থাইক্যা নাইম্যা পড়নু।
হাঁর নীল ধুতুরার নীলাম্বরী ফুইট্ট্যা খাড়ো হয়্যা আছি রাস্তা পার হওয়ার লাইগ্যা, কিন্তু বাস-ট্রাকের লাইগ্যা পার হইতে পারছে না। হাঁমি এটাই চাহাছি, হাঁমি নীল ধুতুরার ঘ্রাণের কাছে যাওয়ার আগে যেনে পার না হতে পারে। হঠাৎ রাস্তায় বাস-ট্রাক ফাঁকা হয়ে গ্যালো এবং পা বাড়ালো রাস্তা পার হতে; আর তখনই যা হয়, তাই হইলো চোখে চোখ। আর যাইব্যা কুন্ঠৈ মামুর ব্যাটি?
চোখে মুখে আশ্চর্যতা ও একটু দ্বিধা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। ভুলে যেতে চাহিলেই কি ভুলা যায়, চলে যাইতে চাহিলেই কি সামনে রেখে প্রেমের সাগর উপেক্ষিত করা যায়।
হাঁর চিকনি চামেলি টা হয়ে গ্যাছে ময়দার বস্তা। সেই আগের মতোন লাবন্যতা নাই, কেমন য্যানো পাইনস্যা হয়ে গেছে। আগে ওরে একবার দেখলে, ছাগলেরা বারবার খুঁইট্যা খুঁইট্যা দ্যাখতো। হাঁমি প্রেমে পইড়্যাছিনু তার গায়ের অজানা বনজ ফুলের উৎপত্তিস্থল খুঁজতে খুঁজতে। হাঁমি আলতো কৈর্যা তার কাঁধ ঘেঁষে গাড়োয়ান হয়নু কিন্তু অনুপস্থিত পৃথিবীর সেই শ্রেষ্ঠ মাদকের ঘ্রাণ।
পাশে খাড়ো হয়ার সঁথে সঁথে, তার ছাতার ভিতরে হাঁকে টাইন্যা লিলো নীল ধুতুরার নীলাম্বরী।
নীল ধুতুরা শুক্খা গলায় পুচ করলো, কেমন আছো?
আমি হাঁপাইতে হাঁপাইতে কহিনু , ভালো আছি শুন্য। আমি ওকে মাঝে মইধ্য শুন্য কোহেও ডাকতুন।
হাঁমি কোহিনু তুমি কেমন আছো?
শুন্য কহিলো ভালো। আরো কহিলো, তুমি শুইক্খ্যা গ্যাছো কেনে?
হাঁমি মুচকি টানে হাইস্যা কোহিনু, একটা ব্যাটি ছাইল্যার প্রেমে পইড়্যা।
শুন্য ফের কোহিলো, তো কেমন করছো প্রেম?
হাঁমি কোহিনু ভালোয়…….
কিন্তু হাঁমি হুতাশে ভুগতে লাগনু, হাঁর চঞ্চলা হরিণীটি কেমন লুইতথ্যা থোসড়া হয়্যা গ্যাছে।
এতো দিন পরে দেখা, কিন্তু কোনো আগের মতোন আগ্রহ নাই খো! প্রেমিকারা কি XXX হয়্যা গ্যালে এ্যা-মনি হয়! ওর সঁথে হাঁর কি লোহার মতোন শক্ত সম্পর্ক ছিলো “নীল ধুতুরা” উপন্যাস না পড়লে কেহু জানতে পারবে নাখো। ঘাটের তক্তা তার পিঠে ভাইঙ্গ্যা গেছিলো, কিন্তু হাঁরঘে প্রেম ভাঙ্গেনি তখন। আহারে প্রেম! আহারে ভালোবাসা…….
হাঁমি বেহায়া কুকুরের মতোন কোহিনু , শুন্য তোমার নাম্বারটা দিব্যা?
শুন্য কোহিলো, আগের টাতেই কল দিয়েন।
হাঁমি কোহিনু ফের নাম্বার টা দ্যাও……
ফিসফিস কৈর্যা কোহিলো 0186******
হাঁমি আর তার সময় লষ্টো করনু না, ভালো থাকো ফোনে কথা হইবে কইহ্যা খুশিতে বিদায় দিয়্যা দিনু।
তখন থাইক্যা এখন পর্যন্ত কল দিয়্যা যাছি, মামুর ব্যাটি কোহ্যা যাইছ্যা সংযোগ প্রদান করা যাইছ্যা না। হাঁর কিযে অপমানিত লাগছে, কহিতে পারছি ন্যা শুন্য বালিকা?
এইটা হইলো XXX কাহানি…….



